নূর নাহার- চার বোন ও এক ভাইয়ের পরিবার তাদের। বাবা ভ্যানচালক মো. সোবহান খান সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ভাগ্য ফেরাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নূর নাহারের কণ্ঠে কান্নার সুর, ‘এখন কেউ আমাকে বলবে না, মা তুমি খাইছো, ঠিকমতো পড়ো। আমাগো দেখাশুনা করার মতো কেউ রইল না।’
‘আমি বাবারে একবার দেখার জন্য তার লাশটা দেশে চাই।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠেই যোগ করেন তিনি।
সোবহান খান মাদারীপুর সদর উপজেলার হরিকুমারিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সোবহান খানের স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ভাষ্য, ঋণ করে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভালো কিছুর আশায়। কিন্তু তিনি কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। এখন ছয় সন্তান নিয়ে কীভাবে চলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
চরম আর্থিক সংকটের কারণে মরদেহ দেশে আনার সামর্থ্য নেই তাদের। তাই সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন পরিবারটি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের হাল ধরতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সৌদি আরবে যান সোবহান খান। সেখানে গিয়ে প্রথম কয়েক মাস কোনো কাজ না পাওয়ায় পরিবারে টাকা পাঠাতে পারেননি। প্রায় দুই মাস আগে একটি নির্মাণকাজে যোগ দিলেও ততদিনে ঋণের চাপ আরও বেড়ে যায়।
কয়েক দিন আগে কাজ করার সময় একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রিয়াদের নাছিম ব্রাঞ্চ আল-জাজিরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মরদেহ দেশে ফেরত আনার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছে পরিবার। আবেদনপত্রের অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, মরদেহ আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বজনদের একটাই দাবি, দ্রুত যেন সোবহান খানের মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।