শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সর্বশেষ সংবাদঃ
সংরক্ষিত নারী আসনে ত্যাগীদের এগিয়ে রাখতে চায় বিএনপি, চূড়ান্ত তালিকা শিগগিরই পুলিশের মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : ডিসি মর্জিনা আক্তার বাসস এমডি হলেন কামাল উদ্দিন সবুজ  ফিলিং স্টেশন মালিক ও ট্যাগ অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ঘুড়ি ওড়াতে দিয়ে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন চিফ হুইপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, বড় কারণ পরকীয়া জব্দ করা ৫৬০০ লিটার তেল কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি জমে উঠেছে মাদারীপুর জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচন বিএনপির দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পরিবহন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ নামজারিতে ঘুষ নিলে ঠিকানা হবে জেলখানা নয়তো পানিতে : এমপি জাহান্দার আলী ডা. রবীন্দ্রনাথ মল্লিকের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা নির্ধারণ যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত মাদারীপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন খোন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনা নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ছাত্রদল নেতার উপর হামলার দায় অস্বীকার করে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত জেলা পরিষদের নবাগত প্রশাসক মাশুকুর রহমান বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল মৌচাষির
Notice :
বিজ্ঞপ্তি : পাঠক প্রিয় পত্রিকা দৈনিক আলোকিত সময় এর জন্য সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিছু সংখ্যক সংবাদকর্মী আবশ্যক। 01307520775 হোয়াটসঅ্যাপ

আইলার ১২ বছর

শাহারুল আমিন / ১৩৯ সময়ঃ
নিউজ আপঃ মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১, ৭:২৮ অপরাহ্ণ

আইলার ১২ বছর।
পুনর্বাসিত হয়নি সাতক্ষীরার ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলীয় জনপদের হাজার হাজার পরিবার। তার উপর আবারও আম্পানের আঘাতে লন্ড ভন্ড আশ্রয়হীন জনপদে চলছে অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান ও খাবার পানির তীব্র হাহাকার। সংস্কার হয়নি বেঁড়িবাধ।

শাহারুল আমিন,বার্তা সম্পাদকঃ

আজ ভয়াল ২৫ মে। সর্বগ্রাসী আইলার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের উপকুলজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আইলা কবলিত হাজার হাজার পরিবার এখনও পূর্নবাসিত হয়নি। আশ্রয়হীন জনপদে এখনও চলছে অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান ও খাবার পানির জন্য তীব্র হা-হা-কা-র। সর্বগ্রাসী আইলা আজও উপকুলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত হাজার, হাজার মানুষকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সংস্কার করা হয়নি উপকুলীয় এলাকা ঝকিপূর্ণ বেঁড়িবাধ। তার উপর আবারও ঘূর্নিঝড় আম্পানের আঘাতে লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে উপকুলীয় এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ মে সামুদ্রিক জলোচ্ছাস ও ঘুর্নিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সর্বনাশা “আইলা” আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলীয় জনপদে। মুহুর্তের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও খুলনা জেলার কয়রা ও দাকোপ উপজেলার উপকুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতায় সমুদ্রের পানি এসে নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ, হাজার হাজার গবাদী পশু আর ঘরবাড়ি । ক্ষণিকের মধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখো পরিবার । লক্ষ লক্ষ হেক্টর চিংড়ি আর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় উপকুল রক্ষা বাঁধ আর অসংখ্য ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সর্বনাশা “আইলা”র আঘাতে শুধু সাতক্ষীরায় নিহত হয় ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু আর আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। প্রলংয়করী আইলা আঘাত আনার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকুলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর ও আশশুনির প্রতাপনগর এলাকায় মানুষের হাহাকার এতটুকু থামেনি। দু‘মুঠো ভাতের জন্য জীবনের সাথে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। আইলার পর থেকে এসব এলাকায় সুপেয় পানি সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। আইলা কবলিত এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, উপকুলীয় বেঁড়িবাধ এখনও ঠিকমত সংস্কার হয়নি। তার উপর ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্নিঝড় আম্পানের আঘাতে আবারও লন্ড্ ভন্ড হয়ে গেছে উপকুলীয় জনপদ।
এর উপর ঘূর্ণিঝড় “যশ” এর আগমনী বার্তায় উপকূলীয় এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ জরাজীর্ণ বেঁড়িবাধ ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ ১২ বছর আগেও সবুজ বনানীতে পরিপূর্ণ ছিল সাতক্ষীরা শ্যামনগর ও আশাশুনির উপকুলীয় অঞ্চল। শাক সবজি ধান পাটসহ অন্যান্য ফসলে ভরে উঠত পুরো এলাকা। তবে সেদিন আর নেই। লবনাক্ততায় বিষাক্ত হয়ে উঠেছে মাটি। চারিদিকে গাছপালাহীন ঘের আর ঘের। সবুজের বালাই নেই। নেই পরিবেশগত ভারসাম্য।

স্থানীয়দের দাবী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় টেকসই বেঁড়িবাধ নির্মানসহ সুপেয় পানি ও এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কারে সরকারী যেন দ্রত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অসিম বরন চক্রবর্তী জানান, প্রলংকারী আইলার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার উপকুলীয় এলাকার মানুষ এখনও মাথা উচু করে দাাঁড়াতে পারেননি। আজও সেখানকার মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অভাব রয়েছে। একই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে বিচ্ছিন্ন। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়িবাধ গুলো রয়েছে ভয়াবহ অবস্থায়। দু একটি জায়গায় সংস্কার করা হলেও অধিকাংশ জায়গায় রয়েছে ভয়াবহ ফাটল। যে কোন সময় প্রবল জোয়ারের চাপে তা আবারও ভেঙে বিস্তর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তিনি টেকসই বেঁড়িবাধ নির্মানে এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, সরকারী উদ্যোগে উপকুলীয় এলাকার সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। এছাড়া সাতক্ষীরাকে অতিদূর্যোগপ্রবণ জেলা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারে কাছে দাবী জানিয়েছেন তিনি।

Facebook Comments Box


এই বিভাগের আরও খবর

জেনে নিন এক ক্লিকে বিভাগের সবখবর