সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ডাসারে গ্রাম আদালত বিষয়ক বার্ষিক ক্যাম্পেইন ও ভিডিও শো অনুষ্ঠিত এবার ফরিদপুর-১ আসনেরও দায়িত্ব পেলেন হেলেন জেরিন খান মাদারীপুরে থানা ঘেরাও করে হত্যা মামলার ২ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৭ ডাসারে অপসংবাদিকতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শহরের শকুনি লেকের সৌন্দর্য ফেরাতে উচ্ছেদ যৌথ অভিযান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা মাদারীপুরে বাস চাপায় শিশুর মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি সরকার- এমপি খোকন তালুকদার মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের নগদ দশ লাখ টাকা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রদান ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫ মাদারীপুরে অজ্ঞান পার্টির ৩ সদস্য গ্রেফতার মাদারীপুর জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত ‘নারী হুইপ’ হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন হেলেন জেরিন খান : আনন্দে ভাসছে মাদারীপুরের তৃণমূল নেতাকর্মী বাংলা সাহিত্য একাডেমি `মাদারীপুর সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত মাদারীপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত রাজৈরে পাওনা টাকা নিয়ে মারধর, একজনের মৃত্যু নতুন কুড়ি ২০২৬ (মাদারীপুর) ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাকিমের বাবার দাফন সম্পন্ন আওয়ামীলীগ নেতা শফিক খান ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের আসাদুজ্জামান লিটন আটক
Notice :
বিজ্ঞপ্তি : পাঠক প্রিয় পত্রিকা দৈনিক আলোকিত সময় এর জন্য সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিছু সংখ্যক সংবাদকর্মী আবশ্যক। 01307520775 হোয়াটসঅ্যাপ

সিনহা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী প্রদীপ, নেপথ্যে ইয়াবা: র‍্যাব

প্রতিবেদকের নাম / ১৭১ সময়ঃ
নিউজ আপঃ রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:৪১ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্টঃসেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ। ওসি প্রদীপের ইয়াবা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ভিডিও ইন্টারভিউ চাওয়ায় প্রথমে হুমকি ও পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করার পর বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব তথ্য জানান।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড তদন্তের ভার র‍্যাব পাওয়ার চার মাস ১০ দিন পর তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন। ৮৩ জন সাক্ষীকে অন্তর্ভুক্ত করে ২৬ পৃষ্ঠার এই চার্জশিটে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করেছেন তিনি। এই ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য, তিন জন এপিবিএন’র বরখাস্ত হওয়া সদস্য এবং তিন জন বেসামরিক ব্যক্তি। ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন কারাগারে আছেন। একজন পলাতক। কারাগারে থাকা ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন তাদের নিজ নিজ দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতার দুই আসামি ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা জবানবন্দি দেননি।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুব স্পষ্টভাবেই একটি বিষয় সামনে এনেছেন। ঘটনার সাক্ষী, আলামত, আসামিদের জবানবন্দির মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়া এবং অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাশের প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেন আপর আসামি এসআই লিয়াকত আলী, মো. নুরুল আমিন, পুলিশের সোর্স মুহাম্মদ আয়াজ ও মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন। আবার লিয়াকত আলীকে সহযোগিতা করেন আরেক পুলিশ সদস্য নন্দ দুলাল। পাশাপাশি এপিবিএন’র তিন সদস্যের সহায়তায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে ওই ফাঁড়ির আরও পুলিশ সদস্য সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করার এবং ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার বর্ণনায় যা বললো র‍্যাব

র‍্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, জুলাই মাসের ৭ তারিখে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান, শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও রূপতি মিলে নীলিমা রিসোর্টে অবস্থান করেন। ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য তারা টেকনাফে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে রূপতি ফিরে আসে। সে সময় সেখানে বেশ কিছু দিন থাকার সময়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। তাদের কাছ থেকে ওসি প্রদীপের ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ে নানা বিষয় জানতে পারেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এ বিষয়ে সিনহা ক্যামেরাসহ ওসি প্রদীপের কাছে বক্তব্য নিতে যান। সে সময়ে ওসি প্রদীপ তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যায়। বক্তব্য না দিতে তাদের টেকনাফ ছেড়ে চলে যাওয়ার সরাসরি হুমকি দেন তিনি।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত দুটি কারণে ওসি প্রদীপ এ ঘটনা ঘটান। একটি হলো, ওসি প্রদীপের ইয়াবা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়। অপরটি, সিনহা এ তথ্য যেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানতে পারেন। হুমকির পরেও যখন মেজর সিনহা রাশেদ তাদের ইউটিউব চ্যানেলের কাজ ও ইয়াবা অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন, তখন ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও ওসি প্রদীপসহ অন্যরা পরিকল্পনা করে এ ঘটনা ঘটান।

চার্জশিটে এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পূর্ব থেকেই ওসি প্রদীপ সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন কক্সবাজার জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ। এই ঘটনা ঘটার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করা, সিনহা রাশেদকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করাসহ বেশ কিছু কারণে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অপেশাদারি আচরণ করেছেন বলে মনে করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চার্জশিটে একটি সিদ্ধান্ত উপস্থাপনা করা হয়েছে বলে জানান র‍্যাব কর্মকর্তা।

কী ছিল সিনহার ল্যাপটপে

র‍্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন রাতে নীলিমা রিসোর্টে অভিযান চালায় টেকনাফ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে সেখান থেকে তারা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের ল্যাপটপ উদ্ধার করে।’

তিনি বলেন, ‘সেই ল্যাপটপ প্রথমে টেকনাফ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীর জবানবন্দি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, সিনহার ল্যাপটপে যে ডিজিটাল কনটেন্ট ছিল, সেগুলো তারা থানায় বসে ধ্বংস করে।’ র‍্যাব জানায়, ল্যাপটপে এমন কিছু ভিডিও ছিল—যা প্রদীপ ও লিয়াকতের অস্তিত্ব সংকটে ফেলতে পারে। আমরা ডিজিটাল ডকুমেন্ট অনেক কিছু উদ্ধার করতে পারলেও ওই ভিডিওগুলো উদ্ধার করতে পারিনি।

Facebook Comments Box


এই বিভাগের আরও খবর

জেনে নিন এক ক্লিকে বিভাগের সবখবর