শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সর্বশেষ সংবাদঃ
উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, বড় কারণ পরকীয়া জব্দ করা ৫৬০০ লিটার তেল কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি জমে উঠেছে মাদারীপুর জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচন বিএনপির দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পরিবহন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ নামজারিতে ঘুষ নিলে ঠিকানা হবে জেলখানা নয়তো পানিতে : এমপি জাহান্দার আলী ডা. রবীন্দ্রনাথ মল্লিকের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা নির্ধারণ যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত মাদারীপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন খোন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনা নেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ছাত্রদল নেতার উপর হামলার দায় অস্বীকার করে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত জেলা পরিষদের নবাগত প্রশাসক মাশুকুর রহমান বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল মৌচাষির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে হরমুজ পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের জামিনে মুক্তি পেয়েই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতার ঈদে সড়কে প্রাণ গেল ২৬ জনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হত্যা : ৪০ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ পিকআপ-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিশুসহ আহত ৮ বাড়ির আঙিনায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু
Notice :
বিজ্ঞপ্তি : পাঠক প্রিয় পত্রিকা দৈনিক আলোকিত সময় এর জন্য সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিছু সংখ্যক সংবাদকর্মী আবশ্যক। 01307520775 হোয়াটসঅ্যাপ

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, বড় কারণ পরকীয়া

এস. এম. রাসেল : / ৩০ সময়ঃ
নিউজ আপঃ বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মাদারীপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে পরকীয়া সম্পর্ক, দাম্পত্যে বোঝাপড়ার অভাব, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং দায়িত্বহীনতা।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাদারীপুরে মোট বিয়ে হয়েছে ৮ হাজার ১০৬টি, বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৫ হাজার ৫২১টি। অর্থাৎ মোট বিয়ের প্রায় ৬৮ শতাংশের সমান বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলায় বিয়ে হয়েছে ২ হাজার ২২৬টি এবং বিচ্ছেদ ২ হাজার ১৭৭টি—যেখানে বিয়ে ও বিচ্ছেদের ব্যবধান মাত্র ৪৯টি। শিবচরে বিয়ে ২ হাজার ৪৩১টি, বিচ্ছেদ ১ হাজার ২৩৭টি; কালকিনিতে বিয়ে ১ হাজার ৮২৮টি, বিচ্ছেদ ৯২১টি; আর রাজৈরে বিয়ে ১ হাজার ৬২১টি, বিচ্ছেদ ১ হাজার ৯৬টি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, বিয়ের মাত্র ১৪ মাসের মাথায় তার সংসার ভেঙে যায়। স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর দাম্পত্য সম্পর্ক আর টেকেনি।

এক প্রবাসী বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। দেশে ফিরে তিনি স্ত্রীর অন্য সম্পর্কে জড়িত থাকার প্রমাণ পান এবং পরে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

আরেক প্রবাসী গিয়াসউদ্দিন খান জানান, জীবিকার তাগিদে বিদেশে গিয়ে তিনি নিয়মিত সংসারে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু কয়েক বছর পর জানতে পারেন, তার স্ত্রী অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে সন্তানদের নিয়েই তিনি জীবনযাপন করছেন।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের মতে, বর্তমানে বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ পরকীয়া। এ ছাড়া দীর্ঘ প্রবাস জীবন, দাম্পত্য কলহ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসও বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রেই সামান্য ভুল-বোঝাবুঝি মিটিয়ে না নিয়ে দম্পতিরা বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন।

আরেক বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মাওলানা কাওসার হাওলাদার বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিচ্ছেদের হার আরও বাড়বে। তিনি পারিবারিকভাবে সম্পন্ন বিয়েতে বিচ্ছেদের হার তুলনামূলক কম বলেও উল্লেখ করেন এবং দাম্পত্য কলহে দুই পরিবারের ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন।

মাদারীপুর জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান সোহেল বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ আইনগতভাবে স্বীকৃত অধিকার হলেও এর হার বৃদ্ধি সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, বিরোধ চরমে পৌঁছানোর আগেই মধ্যস্থতা ও পারিবারিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম রাসেল বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পারিবারিক সহায়তা ও আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন  অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে এবং বেকারত্বও বিচ্ছেদের বড় কারণ। মানসিক ও আর্থিক অপ্রস্তুত অবস্থায় দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন তৈরি হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছেদে গড়ায়।

জেলা রেজিস্ট্রার আমির হামজা বলেন, চলতি বছরে বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি পরকীয়াকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী পরিবারে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা, পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Facebook Comments Box


এই বিভাগের আরও খবর

জেনে নিন এক ক্লিকে বিভাগের সবখবর